ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন যে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতি “ব্যাপক লাইফ সাপোর্টে” রয়েছে। ইরানের সর্বশেষ পাল্টা প্রস্তাবকে তিনি “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আলোচনায় কী নিয়ে বিরোধ?
যুক্তরাষ্ট্র একটি ১৪-দফা সমঝোতা স্মারক (MOU) প্রস্তুত করেছে, যেখানে ইরানকে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানকে কমপক্ষে ১২ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখতে হবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং বিলিয়ন ডলার জমাট সম্পদ ফিরিয়ে দেবে।
কিন্তু ইরান তার পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিকে “অলঙ্ঘনীয় লাল রেখা” হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং জানিয়েছে যে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ প্রশ্নে কোনো আপোষ করা হবে না।
ইরানের কড়া বার্তা
ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সোমবার বলেছেন, তার দেশ “প্রতিটি বিকল্পের জন্য প্রস্তুত” এবং সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে “শিক্ষামূলক জবাব” দিতে সক্ষম।
যুদ্ধবিরতির পটভূমি
গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, পুনর্গঠন ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তি।
সামনে কী?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে শীঘ্রই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হবে। ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর তেলের মূল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে — ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচার প্রতি ব্যারেলে ১০১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং ব্রেন্ট ক্রুড ১০৮ ডলারের উপরে উঠেছে।
সমগ্র বিশ্ব এই আলোচনার দিকে উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, কারণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের তেলের একটি বড় অংশ সরবরাহ হয়। যেকোনো সংঘাতের পুনরুজ্জীবন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।