বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অমর এক নাম সত্যজিৎ রায়। বিজ্ঞাপন জগতের সাধারণ এক কর্মী থেকে কীভাবে তিনি নিজেকে বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, সেই ইতিহাস আজও তরুণ নির্মাতাদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। সম্প্রতি তাঁর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে তাঁর শৈশব, শান্তিনিকেতনের দিনগুলো এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হয়ে ওঠার গল্প নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
শান্তিনিকেতন থেকে কলকাতার বিজ্ঞাপনী সংস্থা
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর নাতি এবং সুকুমার রায়ের পুত্র সত্যজিৎ রায়ের পড়াশোনা ছিল কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। যদিও বিশ্বভারতীতে পাঁচ বছর পড়ার কথা ছিল, কিন্তু ১৯৪৩ সালে কোর্স শেষ হওয়ার আগেই তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। কলকাতায় ফিরে মাত্র ৮০ টাকা বেতনে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ শুরু করেন তিনি।
অনুপ্রেরণা যখন জ্যঁ রেনোয়া ও ‘দ্য বাইসাইকেল থিফ’
সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র নির্মাণের নেশা প্রবল হয় যখন প্রখ্যাত ফরাসি পরিচালক জ্যঁ রেনোয়া তাঁর ‘দ্য রিভার’ ছবির শুটিং করতে কলকাতায় আসেন। সেই ছবির সহকারীর কাজ করতে গিয়েই নির্মাণের কারিগরি দিকগুলো রপ্ত করতে শুরু করেন তিনি। তবে ভিক্টোরিও ডি সিকার কালজয়ী সিনেমা ‘দ্য বাইসাইকেল থিফ’ দেখার পর তিনি বাস্তবধর্মী গল্প বলতে উদ্বুদ্ধ হন।
কলকাতা ফিল্ম সোসাইটি ও বৈশ্বিক ভাবনা
চলচ্চিত্রকে নিছক বিনোদন নয়, বরং শিল্প হিসেবে ছড়িয়ে দিতে ১৯৪৭ সালে চিদানন্দ দাসগুপ্তদের সঙ্গে মিলে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘কলকাতা ফিল্ম সোসাইটি’। এর মাধ্যমেই তিনি বিশ্ব চলচ্চিত্রের সমসাময়িক ধারাগুলোর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে পরিচিত হন, যা পরবর্তীতে তাঁর ‘পথের পাঁচালী’র মতো কালজয়ী সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এই নির্মাতার সৃষ্টি আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবন ও কাজের এই বিবর্তন প্রমাণ করে যে, মেধা ও একাগ্রতা থাকলে স্থানীয় গল্পকেও বিশ্বজনীন করে তোলা সম্ভব।