রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে লাগামহীনভাবে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। চাল, ডাল, তেলের পর এবার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস ডিম। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ৫০ টাকারও বেশি। খুচরা বাজারে এখন এক ডজন ডিম কিনতে গ্রাহকদের খরচ করতে হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা।
আজ মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল ও শুক্রাবাদসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মাসেও এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে। হঠাৎ করেই এই দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষ। অনেক পরিবার তাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা থেকে ডিম বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
শুক্রাবাদ বাজারের এক ক্রেতা, মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “সবকিছুর দামই তো বাড়ছে, কিন্তু ডিমের দাম এভাবে বাড়বে ভাবিনি। এক মাস আগে ১১০ টাকায় কিনেছি, আজ চাইল ১৫৫ টাকা। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে।”
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকেই তাদের বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। আড়তদারদের দাবি, তীব্র গরম এবং মুরগির খাবারের দাম বাড়ার কারণে ডিমের উৎপাদন কমেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে।
পাইকারি ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গ্রীষ্মকালীন অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে অনেক খামারে মুরগি মারা গেছে এবং ডিম পাড়ার হার কমেছে। এছাড়া, পোল্ট্রি ফিডের দাম বিশ্ববাজারে বাড়ার প্রভাব সরাসরি ডিমের ওপর পড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম।”
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই দাম আরও বাড়তে পারে, যা তাদের জীবনযাত্রার মানকে আরও কঠিন করে তুলবে।