খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি অভিযানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) প্রশাসনের অন্তত ১১ জন সদস্য এবং স্থানীয় ৪ গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি এবং আনসার সদস্যরা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে রামগড় ইউনিয়নের পূর্ব বলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকায় প্রায় ১০টি স্থানে পাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে যান ইউএনও কাজী শামীম।
অতর্কিত হামলা ও আহতদের তালিকা
অভিযান চলাকালীন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে প্রশাসনিক দলের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে আহতদের মধ্যে রয়েছেন:
- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম।
- রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম।
- ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত চার আনসার সদস্যসহ প্রশাসনের আরও বেশ কয়েকজন কর্মচারী।
- রাবার বুলেটে আহত ৪ গ্রামবাসী।
আহতরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ইউএনও কাজী শামীমের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, অভিযানে তাদের সেচকাজে ব্যবহৃত পাম্প মেশিন ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে বাধা দিতে গেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুলি চালানো হয়। যদিও ইউএনও কৃষকদের পাম্প ভাঙচুরের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
হামলার তীব্রতায় একপর্যায়ে অভিযান বন্ধ করে ফিরে আসতে বাধ্য হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। রামগড় থানার ওসি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫টি ফাঁকা গুলি এবং আনসার সদস্যরা ৫টি রাবার বুলেট ছুড়েছেন। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।