নিজস্ব প্রতিবেদক | অর্থনীতি ডেস্ক
সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ব্যাপক অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা দেখা গেলেও বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে গ্রাহকদের আমানতের টাকা পরিশোধে কোনো বাধা নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংক এমন অবস্থায় নেই যে গ্রাহকদের উত্তোলনের চাহিদা পূরণ করতে পারবে না। প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য সহায়তাও দেবে।
সম্প্রতি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা আমানত উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের মোট আমানতের তুলনায় এই পরিমাণ এখনো তাৎক্ষণিক তারল্য সংকট তৈরির মতো নয়।
গ্রাহকরা কবে থেকে টাকা পাবেন?
বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় তাদের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও জানিয়েছে, গ্রাহকদের আমানত ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা স্থগিতাদেশ নেই।
ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হয়ে টাকা তোলার কোনো কারণ নেই।”
আস্থাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
ব্যাংকিং বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তারল্য সংকট নয়, বরং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। কারণ ব্যাংকিং খাত মূলত বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। গ্রাহকদের আস্থা ফিরে এলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি অব্যাহত
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গ্রাহকরা নগদ অর্থ উত্তোলন করছেন নাকি অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
সারসংক্ষেপ: বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা তাদের আমানতের টাকা উত্তোলন করতে পারছেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি অনুযায়ী আমানত ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে চলমান অস্থিরতা কাটিয়ে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন ব্যাংকটির প্রধান চ্যালেঞ্জ।