প্রখ্যাত লেখক রেজা খান তাঁর শৈশবের স্মৃতিরোমন্থনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নদী ও খালের বর্তমান করুণ দশা এবং সরকারি ‘খাল খনন’ কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন।
নিবন্ধের মূল বিষয়বস্তু:
- স্মৃতির ধামরাই ও জলপথের সোনালী দিন: ১৯৫০-এর দশকে ঢাকার ধামরাইয়ের বালিয়া গ্রাম ছিল নদীমাতৃক জীবনের প্রতিচ্ছবি। বংশী নদী এবং বালিয়া খালই ছিল গ্রামবাসীর যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনোদনের প্রধান উৎস। বর্ষাকালে এই অঞ্চলটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠত এবং মানুষের জীবনযাত্রা পুরোপুরি মৌসুমী পানির ওপর নির্ভর করত।
- প্রকৃতির পরিবর্তন ও বর্তমান হাহাকার: ১৯৫৭ সালের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ে নদীর চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। লেখকের শৈশবের সেই খরস্রোতা বংশী নদী আজ প্রায় মৃত এবং বালিয়া খাল ভরাট হয়ে সেখানে রাস্তা ও ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে। ধলেশ্বরীসহ দেশের প্রধান নদীগুলোও নাব্য সংকটে ভুগছে।
- খাল খনন কর্মসূচি ও বাস্তব প্রশ্ন: বর্তমানে সরকার দেশজুড়ে যে ‘খাল খনন’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তার উদ্দেশ্য মহৎ হলেও এর বাস্তবতা নিয়ে লেখক সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে:
- নদীর সঙ্গে সংযোগহীন খাল খনন করলে তাতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ তৈরি হবে না।
- বদ্ধ পানি মশা ও রোগজীবাণুর প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।
- অবৈধ দখল হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধার করা এখন সামাজিকভাবে অত্যন্ত কঠিন কাজ।
- অগ্রাধিকার ও সমাধান: লেখক মনে করেন, বিচ্ছিন্নভাবে খাল খনন না করে সরকারের উচিত মৌলিক কিছু বিষয়ে নজর দেওয়া:
- আগে নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার করা।
- নদী ও খালের প্রাকৃতিক সংযোগ পুনরায় স্থাপন করা।
- অবৈধ দখল ও ভরাট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
মূল কথা: নদী যদি বেঁচে না থাকে, তবে খাল বাঁচানো সম্ভব নয়। দেশের কৃষি, পরিবেশ এবং ভবিষ্যতের পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে নদী রক্ষা ও সুপরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই।